উজিরপুরে আ’লীগের মনোনয়ন নিয়ে তৃনমূলে তীব্র ক্ষোভ ॥ অভিযোগের তীর উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে

0
493

বরিশাল প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে ৭ ইউনিয়নেই আওয়ামীলীগের বিতর্কিত ব্যাক্তিদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন চুরান্ত করায় তৃনমুল আওয়ামীলীগে ক্ষোভ হতাশা বিক্ষোভ ও গনপদত্যাগের কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা অবৈধ ভাবে অর্থ বানিজ্য করে নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী চুরান্ত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে। অন্যদিকে হারতা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে শান্তি কমিটির সদস্য কুশিশ্বর রায়ের ছেলে হরেন রায়কে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভে ফুসে উঠেছে হারতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সকল নেতৃবৃন্দ। হারতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিক্ষুব্দ নেতাকর্মিরা মঙ্গলবার বিকাল হারতা বালিকা বিদ্যালয়ের হল রুমে বিশেষ বর্ধিত সভা করে গন পদত্যাগের কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান শুনিল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় উজিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করে বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক প্রধান শিক্ষক নগেন্দ্র নাথ মন্ডল, হারতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অমল মল্লিক,সহ- সভাপতি অভিলাশ হালদার,সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ দাস,যুবলীগের সভাপতি পরিমল সাহা,সম্পাদক নিখিল চক্রবর্তি,ছাত্রলীগের সভাপতি কৃষ্ণ কান্ত পান্ডে,সম্পাদক মাইনুল মাঝি,স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি রতন সাহা,সম্পাদক সুজিৎ রায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিন্টু মজুমদার, অরুপ রতন হালদার, সহ ৯ ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন। এছারাও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
হারতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তারা ক্ষোভের সাথে আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ৩ শ্রেনীর প্রার্থীদেরকে নৌকা প্রতিক দেওয়া নিষেধ থাকার পরেও উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ এক প্রভাবশালী নেতার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তি কমিটির সদস্য কুশিশ্বর রায়ের (কুশাই রায়) ছেলে হরেন রায়কে আওয়ামীলীগের তথা নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানিত করা তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বৃহত্তর দল আওয়ামীলীগের রাজনিতিকে ধ্বংশ করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা এর প্রতিবাদে হারতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা লিখিত আবেদনের মাধ্যমে গন পদত্যাগের কর্মসূচী গ্রহন করেছেন।
নেতৃবৃন্দরা আরও জানান হরেন রায় গত ২০১১ সালের ২৯ মার্চের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে ভোট চুরি করে হারতার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলো। এছারা হরেন রায় কালবিলা ভোটকেন্দ্রে বোম মেরে জিতেন মল্লিক ( কালাই মাল) নামে এক ভোটারকে হত্যা করেছিলেন।
এছারা বামরাইল ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি গৌরঙ্গ লাল কর্মকার অভিযোগ করে বলেছেন উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল মোটা অঙ্কের টাকা ডোনেশন নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান দুর্নিতিবাজ ইউসুফ হাওলাদারকে ১ মাস আগে আওয়ামীলীগে যোগদান করিয়ে তাকেই আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচন করেছে, এ কারনে গোটা বামরাইল ইউনিয়নের তৃনমূল আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের মাঝে তিব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
ওটরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেক রাড়ী সরাসরি উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালকে অভিযুক্ত করে বলেছেন ওটরা ইউনিয়নে যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন ( অধ্যক্ষ শাহদাৎ হোসেন) তিনি আওয়ামীলীগের কোন ব্যাক্তি নয়, তিনি শুধুমাত্র ইকবাল চেয়ারম্যানের পকেটের লোক,তাকে ইকবাল যা বলে অধ্যক্ষ সাহেব তাই শোনে, খালেক রাড়ী আরও অভিযোগ করে বলেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উজিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল এমপি হওয়ার সপ্নে বিভোর হয়ে গেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাদা মনের মানুষ ও আওয়ামীলীগের পরিচ্ছন্ন নেতা এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তাকে পাল্টি মেরে ফেলে দিয়ে ইকবাল আগামীদিনের উজিরপুর বানারীপাড়া ( বরিশাল ২) আসনের এমপি হওয়ার জন্য উপজেলার তৃনমুলের ত্যাগি ও পরিক্ষিত আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের (বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুশিত ইউনিয়ন গুলোতে) কোনঠাসা করে নিজের পছন্দের বিভিন্ন দলের সন্ত্রাসীদের আওয়ামীলীগে যোগদান করিয়ে দলকে কলুশিত ও বিপদগ্রস্থ করে তুলছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক রাড়ী আরও অভিযোগ করে বলেন গোটা উজিরপুর উপজেলায় ( সাতলা ও বরাকোঠা ইউনিয়ন ব্যাতিত) উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার পছন্দের অযোগ্য,সন্ত্রাসী,ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা কারি পরিবারের সদস্যদের আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেতে সহযোগীতা করেছেন এবং তার সাথে উজিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের আরও ২/৩জন প্রভাবশালী নেতারা জরিত রয়েছেন।
অন্যদিকে জল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি উর্মিলা বাড়ৈ অভিযোগ করে বলেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল জল্লার এক সন্ত্রাসীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার জন্য গত ৩১ জানুয়ারী সকাল ৮ টায় কারফা বাজারে আমার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এসে আমাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী না হওয়ার জন্য প্রকাশ্য বাজারের মধ্যে বসে গালিগালাজ করে হুমকী দিয়ে যায় এবং গত ১৪ ফেব্রুয়ারী উজিরপুর ডাকবাংলোয় উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তৃনমুলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে( প্রার্থী মনোনয়নের সাক্ষাৎকার সভা) আমাকে চরম ভাবে গালিগালাজ করে লাঞ্চিত করে এবং আমার প্রয়াত স্বামী জল্লা ইউনিয়নের জনপ্রিয় সাবেক চেয়ারম্যান অবনি বাড়ৈকে নিয়ে কটুক্তি করার কারনে ওই সভা থেকে আমাকে ইকবাল বের করে দিতে চেয়েছিলো।
উল্লেখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ইউনিয়নের পদবী ধারী আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন এবং গত ৩০ ডিসেম্বরের উজিরপুরের নবগঠিত পৌরসভা নির্বাচনে ইকবাল যে কালিমা লেপন করেছে আমরা তা কোন মতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হতে দেব না।
এ ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস,এম,জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এক কথায় বলেন আমি কোন মন্ত্যব্য করতে পারবো না।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন নেতাকর্মিদের মাঝে ক্ষোভ থাকতেই পারে তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরে প্রতি ইউনিয়নের নেতা কর্মিদের নিয়ে বর্ধিত সভা করে পরবর্তি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের ব্যাবহৃত ০১৭১১৩২১৯৩৫ নম্বরের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করেও পাওয়া না যাওয়ার কারনে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here