জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের মদদদাতা কেউ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না : শাজাহান খান

0
446

রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, এদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের মদদদাতা কেউ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে যেভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে দেশের মানুষ আর তাদের ভোট দেবে না। এদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২৩তম দিনে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সরকারি দলের অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আবদুল মান্নান, মনিরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ও সৈয়দ আবু হোসেন আলোচনায় অংশ নেন।
গত ২০ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ ইকবালুর রহিম তা সমর্থন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ২০১৫ সালে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরে যাবেন। কিন্তু তিনি ঘরে ফিরে গেছেন পরাজিত সৈনিকের মতো।’ তিনি ২০১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের নৃশংসতায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানান।
মন্ত্রী বলেন, ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তারা কখনো খুনিদের ক্ষমা করতে পারবে না। তাই প্রধানমন্ত্রী তাদের হৃদয়ের আকুতি বুঝতে পেরে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করছেন। কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মুজাহিদসহ অনেকের রায় ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তান এই বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের কাছে আমাদের যে পাওনা তা অবশ্যই আদায় করতে হবে।’ ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর আহবান জানান।
জামায়াত-শিবির স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অধীনে নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করলে এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের আয়ত্তে না নিলে এই অর্থ জঙ্গি অর্থায়নে ব্যয় হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এটা খালেদা জিয়ার পছন্দ নয়, কারণ তারা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হয়ে রিলিফ খাওয়াকেই বেশি পছন্দ করেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, এটাও খালেদা জিয়ার পছন্দ নয়, কারণ তিনি নিজেও বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেননি। দেশে বিদ্যুতের উন্নয়ন হয়েছে, এটাও খালেদা জিয়ার পছন্দ নয়, তিনি আলো পছন্দ করেন না। রাতের অন্ধকার বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ। তাই তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাস করেন। এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন না, এটাই তিনি প্রমাণ দিয়েছেন ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার অবমাননা করে।
সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, শুধু খালেদা জিয়াই নয়, একটি অশুভ শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে মাহফুজ আনাম ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১/১১ এর সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছিল। এ ব্যাপারে দেশের অনেক স্থানে মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কতিপয় বুদ্ধিজীবী বলছেন, ‘দোষ স্বীকার করার পর মামলা করা ঠিক হয়নি।’
তারা বলেন, ভুল স্বীকার করলেই সব কিছু শেষ হয়ে যায় না। এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জাতিকে যাতে কেউ আর বিভ্রান্ত করতে না পারে এজন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাহফুজ আনামদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
তারা বলেন, কোন অপশক্তিই সরকারের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে পারবে না। সরকারের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খাতওয়ারি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি দেশে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here