এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরা হলো না বাংলাদেশের : শিরোপা জিতলো ভারত

0
320

এবারও পারলো না বাংলাদেশ। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরতে এবারও ব্যর্থ হলো টাইগাররা। তাই এশিয়া কাপ টুয়েন্টি টুয়েন্টি ফর্মেট ক্রিকেটের প্রথম আসরের শিরোপা জিতে নিলো ভারত। ফাইনালে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। আর এশিয়া কাপের ষষ্ঠ শিরোপা জিতল ভারত।
ফাইনাল ম্যাচ, তার মধ্যে আবার ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া। তাই বাংলাদেশের উপর শুরুতে চাপ সৃষ্টি করতেই টস জিতেই প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। দলপতির সিদ্ধান্তটা সঠিক করতেই প্রথম ওভারে লাইন-লেন্থ দুর্দান্ত বজায় রাখেন টিম ইন্ডিয়ার স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন। প্রথম চার বল সামলাতেই হিমশিম খান ওপেনার তামিম ইকবাল। পঞ্চম বলে ১ রান নিয়ে হাফ ছেড়ে একরকম বাঁেচন তামিম। তবে চাপ যে ছিলো না তা বুঝিয়ে দেন সৌম্য। ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত এক বাউন্ডারি হাকাঁন তিনি।
সৌম্যর বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তামিম। তাতেই পরবর্তীতে দু’টি বাউন্ডারি আসে তামিমের ব্যাট থেকে। থেমে থাকেননি সৌম্য। এরপর আরও দু’টি বাউন্ডারি মারেন তিনি। দু’জনের রান তোলার চিত্র দেখে মনে হচ্ছিলো- স্বপ্ল দৈর্ঘ্যর ম্যাচে বড়সড় স্কোরই করবে বাংলাদেশ।
কিন্তু ৫ বলের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। এই অবস্থায় দলের চিন্তা দূর করার কাজটা ভালোভাবেই সাড়েন সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান। ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হন তারা। তাতে কিছুটা লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়ার বোলিং। এই সুযোগে স্কোর বোর্ডে রানটা ভালোই তুলেছেন সাব্বির ও সাকিব।
রান তোলায় বেশি এগিয়ে ছিলেন সাকিব। দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। তবে অশ্বিনকে আবারো আক্রমনে এনে সাকিবের ইনিংসের ইতি ঘটান ধোনি। ৩টি চারে ১৬ বলে ২১ রান করেন সাকিব। আর সাব্বিরের সাথে ২৭ বলে ৩৪ রান যোগ করেন সাকিব। এই জুটিতে সাব্বিরের অবদান ছিলো ১২ রান।
সাকিবের পরপরই প্যাভিলিয়নে ফিরেন মুশফিকুর রহিম। রান আউট হবার আগে ৫ বলে ৪ রান করেন মুশফিকুর। এরপর উইকেটে এসেই ১ বলের বেশি থাকতে পারেননি টাইগার দলপতি মাশরাফি। ১ বলে শুন্য হাতে বিদায় নিতে হয় তাকে। তখন বাংলাদেশের রান ছিলো ১১.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ৭৫ রান।
ফলে বাংলাদেশের স্কোর শক্তপোক্ত অবস্থায় পৌছায় কি-না বা তিন অংক স্পর্শ করতে পারে কি-না, এই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামে। তবে সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চলমান টুর্নামেন্টে শেষদিকে নেমে বহুবারই বাংলাদেশের রানকে পাহাড়ে বসিয়ে ছিলেন রিয়াদ। আর ফাইনাল ম্যাচে এই কাজটি তিনি করবেন না, তা কি-হয়!!
উত্তর ব্যাট হাতেই দিয়েছেন রিয়াদ। সাত নম্বরে নেমে মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করেন রিয়াদ। তার ইনিংসে ২টি করে চার ও ছক্কা ছিলো। অন্যপ্রান্তে ২৯ বলে ৩২ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির। আর বাংলাদেশের স্কোর গিয়ে দাড়ায় ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০ রান।
ম্যাচ জয়ের জন্য ভারতের সামনে লক্ষ্য দাড়ায় ১২১ রান। সেই লক্ষ্যকে আরও কঠিন করে দেন বাংলাদেশের পেসার আল-আমিন হোসেন। আসলে ভারতের লক্ষ্যকে কঠিন করেননি তিনি। বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করার উপলক্ষ তৈরি করেন আল-আমিন। টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার রোহিত শর্মাকে ১ রানে থামিয়ে দেন আল-আমিন।
এরপর উইকেট নেয়ার চেষ্টাটা অব্যাহত রেখেছিলো বাংলাদেশের বোলাররা। ফলে রান তোলায় সর্তক হয়ে যায় ভারতের দুই ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি। তার প্রমান মিলে পরের দুই ওভারে। প্রথম ওভারে ৫ রান দেয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে যথাক্রমে ৩ ও ৪ রান দেয় বাংলাদেশের বোলাররা।
তবে চতুর্থ ওভারে ৭ এবং পাওয়ার প্লের পঞ্চম ও শেষ ওভারে ১৪ রান নিয়ে নিজেদেরকে চাঙ্গা করে তোলে ভারত। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে ১৪ রান দিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা পেসার আবু হায়দার। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারটা কতটা চাঙ্গা করেছে ভারতকে তা বুঝা গেছে দ্বিতীয় উইকেটে ধাওয়ান ও কোহলির জুটিটি।
আর তাতেই ম্যাচ জয়ের পথ পেয়ে যায় ভারত। ৬৭ বলে ৯৪ রানের জুটি গড়েন ধাওয়ান ও কোহলি। ধাওয়ান ৪৪ বলে ৬০ রান করে বিদায় নিলেও, ধোনিকে নিয়ে ম্যাচ জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়েন কোহলি। তবে ম্যাচ জয়ের শেষ ফিনিংশটা দিয়েছেন ধোনি।
১৪তম ওভারে আল-আমিনের বল থেকে দু’টি ছক্কাসহ ১৭ রান নেন ধোনি। বাকী ৩ রান নিয়েছেন কোহলি। তাই ২৮ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন কোহলি। আর ধোনির ব্যাট থেকে আসে ৬ বলে ২০ রান। ২টি ছক্কা ও ১টি চার মারেন ধোনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ১২০/৫, ২০ ওভার (মাহমুদুল্লাহ ৩৩*, সাব্বির ৩২*, সাকিব ২১, বুমরাহ ১/১৩)।
ভারত : ১২২/২, ১৩.৫ ওভার (ধাওয়ান ৬০, কোহলি ৪১*, তাসকিন ১/১৪)।
ফল : ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here