পাঁচ মামলায়ই জামিন পেলেন খালেদা

0
210

আরও তিন মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ নিয়ে মোট পাঁচটি মামলায়ই জামিন পেলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১টার দিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে শেষ হয় তিন মামলার জামিনের আবেদনের শুনানি। পর্যায়ক্রমে  নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের মামলা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা এবং যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার তিনটি পৃথক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বেলা ১২টা ৫ মিনিটে আদালতে হাজির হয়ে ওই তিনটি মামলায় জামিন চান খালেদা।

পর্যায়ক্রমে পৃথক পৃথক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তার জামিনের আবেদনের শুনানি শেষে সবগুলো মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলাটিতে সমন জারি করা হয়েছিল আসামিদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় ঢাকার সিএমএম আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। এ মামলায়ও হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার প্রতি। যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলাটি (মামলা নম্বর ৫৮) দায়ের করে পুলিশ। এ মামলায় খালেদাসহ ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক পৃথক আরও দুটি চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা ও  যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা মেরে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন পৃথক দুটি জজ আদালত। বেলা পৌনে ১২টায় শুনানি শেষে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালত। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশনা অনুসারে বেলা সাড়ে ১১টায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান খালেদা।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা মেরে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায়ও জামিন পান খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে এ জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত। একই সঙ্গে জামিন পান খন্দকার মাহবুব হোসেনও। সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে ওই মামলায় (মামলা নম্বর ৫৯) আত্মসমর্পণ করে জামিন চান খালেদা। গত বুধবার এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ পলাতক ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত। মামলাটির মোট আসামি ৩৮ জন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে আদালত চত্বরে পৌঁছান খালেদা। এর আগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন। ৫টি মামলায় খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here