রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে

0
254

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রথম পর্যায়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০২২ সালে শুরু হবে। এ লক্ষে সরকার প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এম সিরাজুল হক খান বলেন, বহুপ্রতীক্ষিত এই প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০২২ সালে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ২০২৩ সালে শুরু হবে বলে আশা করছি।
ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কার্যালয়ে শুক্রবার এক সংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের মূল্য হবে সাড়ে তিন টাকা।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান আলি জুরকারনাইন ও প্রকল্পের পরিচালক শওকত আকবর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সচিব বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে।
তিনি বলেন, সরকার চলতি এপ্রিল অথবা আগামী মে মাসে রাশিয়ার সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করবে। ২০২২ সালের মধ্যে প্রথম ফেজ ও ২০২৩ এ দ্বিতীয় ফেজ চালুর লক্ষ্যে আগামী বছর আগস্ট থেকে এর নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হবে।
সচিব বলেন, প্রকল্পটির স্থায়ীত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ বছর এবং যা আরো ৩০ বছর বাড়ানো যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর নির্মাণে সহজ শর্তে ঋণ দিতে সম্মত হন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরপরই রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফর করেছিলেন।
এরপর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরকালে প্রকল্পটি নির্মাণে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প হওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ব্যাপারে আমরা ভারতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক ও আলাপ-আলোচনা করছি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোস্টাম ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারে ২৪শ’ মেগাওয়াটের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পটি নির্মাণে রাশিয়া মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১১.৩৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ অবশিষ্ট ১.২৬৫ বিলিয়ন ডলার যোগান দেবে। ৮ বছর রেয়াতি মেয়াদ সহ ২৮ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি দেখতে গতকাল এক দল সাংবাদিক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বাসসকে বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ যথাযথভাবে এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে ২০২২ সালে ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন শুরু করার আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here