শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

0
267

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীকে বঙ্গবন্ধুর কাক্সিক্ষত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান। আজ ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস। একাত্তরের এদিনে মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। পাশাপাশি এদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ অনুমোদন করা হয়। সেদিন থেকে এ স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিতি লাভ করে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে, জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী শুরু হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সপক্ষের রাজনৈতিক দলসমূহ, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং তদানীন্তন ইপিআরসহ সকল শ্রেণি-পেশার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এই সরকার দীর্ঘ নয় মাস দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মিত্রশক্তির সহায়তায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে সমূলে ধ্বংস করার লক্ষ্যে আড়াই মাসের ব্যবধানে ৩ নভেম্বর জেলখানায় মুক্তিযুরে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় ৪ নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ২১ বছর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল না। আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার সামরিক স্বৈরাচারের বুটের তলায় পিষ্ট হচ্ছিল। ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে সরকার গঠনের পর দেশে আবারও ফিরে আসে গণতন্ত্র।
প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ চার জাতীয় নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। এ ছাড়াও, তিনি সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত মা-বোনদের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার হত্যাকারীদের প্রচলিত আদালতে বিচার ও রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি দায়মুক্ত হয়েছে। জেলখানায় নিহত ৪ জাতীয় নেতা হত্যা মামলার বিচার করা হয়েছে। একাত্তরের মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে সকল ক্ষেত্রে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। গত সাত বছরে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যবিমোচন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ১৪৬৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ০৫। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।’
স্বাধীনতার চেতনা ও উন্নয়ন বিরোধী এ অপরাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ আজ একতাবদ্ধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত এবং বিএনপি নেত্রী ও তাঁর পরিবারকে দুর্নীতি মামলা থেকে বাঁচানোর জন্য রাজনীতির নামে জঙ্গি স্টাইলে মানুষ পুড়িয়ে মারছে, দেশব্যাপী নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। দেশের জনগণ তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here