সংস্কারের অভাবে চিত্রা ও নবগঙ্গা নদী নাব্যতা হারিয়ে আবাদী জমি ও খেলার মাঠে পরিণত

0
464

এম. মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহ :
সংস্কারের অভাবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের চিত্রা ও সদরের নবগঙ্গা নদী নাব্যতা হারিয়ে আবাদী জমি ও খেলার মাঠে পরিনত হয়েছে। এছাড়া ভুমিদস্যুরা দখল করে বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। এসব নদী রক্ষায় সরকারীভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে না।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চিত্রা নদী বৃহত্তর চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা চিনিকলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত। ৮টি জেলার ২৬ টি থানার বক্ষ ভেদ করে খুলনা জেলার রূপসা নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। নদী দু’তীরবর্তী প্রায় ৬শ গ্রামে ৮০ হাজার একর জমিতে এক সময় সেচের আওতায় উচ্চফলনশীল ধান,গম ও অন্যান্য প্রায় ১ লাখ মৎসজীবি এই নদীতে মাছ আহরণ করতো। হাজার হাজার লোকজন নদীতে গোছলসহ খাবার পানি হিসেবেও ব্যবহার করতো। বর্ষা মৌসুমে নদীতে মাত্র ৩ মাস পানি থাকে। হঠাৎ করে নদী শুকিয়ে যায়। তখনই পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীর জীবনে নেমে আসে সীমাহীন দুর্ভোগ। ফলে অনেক গ্রামবাসীকে দু’মাইল দুরে যেয়ে র্নাা-বান্না বা খাবারের পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। কারণ অধিকাংশ নলকুপের পানিতে রান্না করা যায় না। অন্য দিকে হাজার হাজার মৎস জীবিরাও বেকার হয়ে পড়েছে। এক সময় এই নদীতে প্রচুর পরিমাণ তাজা মাছ পাওয়া যেত। যা এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়েও দেশের অন্য অঞ্চলে চালান দেয়া হতো। নদীর দু’ধারে অগণিত ধোপারা কাপড় কেচে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। নদী শুকিয়ে যাওয়াতে আজ সব নীরব নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। যে চিত্রা নদীর উপর দিয়ে পার হবার সময় একদিন বড় বড় নাবিকের বুক কেপে উঠতো আজ সেই নদী এখন ছোটদের খেলার মাঠ। এই নদী এক সময় কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর সাথে সংযুক্ত ছিল কিন্তু খরা মৌসুমে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সুযোগে দর্শনা চিনিকলের পাশ্ববর্তী অঞ্চলে মাটি ভরাট করে এক শ্রেণীর লোক অবৈধভাবে দখল করে নদীর মুখ বন্ধ করে ফেলেছে। যে কারণে নদীর ওপারের মুখ সম্পন্ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একমাত্র বর্ষ মৌসুম ছাড়া নদীতে কোন পানি থাকে না। চিত্রা নদীতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে দর্শনা চিনিকলের কাছ থেকে কুষ্টিয়া গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার নদী খনন করতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লাখ লাখ টাকা ব্যয় অথবা গমের বিনিময়ে খাল, বিল, নদী নালা খনন করা হচেছ। যার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে অযৌতিক ভাবেও খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অথচ গুরুত্বপুর্ণ চিত্রা নদীর দিকে আজ পর্যন্ত কেউ নজর দেয়নি। সংযোগ স্থাপনের জন্য খনন কাজে যে অর্থ ব্যয় হবে তা কমপক্ষে ২ বছরেই সংকুলান হয়ে যাবে। কারণ নদীর তীরবর্তী প্রায় ৮০ হাজার একর জমিতে উচ্চফলনশীল ধান,গমসহ বিভিন্ন ধরনের মুল্যবান কৃষিপণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। নদীর পানি দিয়ে সেচ দেয়া হলে যে কোন ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায়। নদীর তীরবর্তী এলাকাবাসীর দাবি নদীটি পুর্ণ খনন করে আবার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হোক।
অপরদিকে ঝিনাইদহের অপর দীর্ঘ নদী হচ্ছে নবগঙ্গা। এ নদীরও উৎপত্তি স্থল মাথাভাঙ্গা। এই নদীটি ঝিনাইদহ শহরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দু’পাড় দখল করে প্রভাবশালীরা ঘর-বাড়ি, দোকানপাট এবং নদীর মধ্যে অনেকেই পুকুর কেটেছেন। নবগঙ্গা নদীটি চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ-মাগুরা জেলার উপর দিয়ে মধুমতি নদীর সাথে মিশে গেছে। দখলবাজি ও সংস্কারের অভাবে উৎস মুখ ভরাট হয়ে নবগঙ্গার পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীটি এখন সরু মরা খালে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া নদীবক্ষ জুড়ে চলছে চাষাবাদ। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নদী দখল মুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এ্যাসিলান্ড (ভূমি) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই নদীগুলো অবমুক্ত করা হবে বলে আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here