আগামী বাজেট হবে অধিকতর উন্নয়নবান্ধব : এনবিআর চেয়ারম্যান

0
246

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেছেন, দেশে দিন দিন রাজস্ব বান্ধব সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের ৮৫ভাগ কর্মকান্ড রাজস্ব দিয়েই পরিচালিত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, রাজস্ব হচ্ছে উন্নয়নের অক্সিজেন। দেশের উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ আরো বাড়ানো জরুরি। সিলেটে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের উপর প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবিআর চেয়ারম্যান একথা বলেন। সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এই সভার আয়োজন করে। নজিবুর রহমান বলেন, আগামী বাজেট হবে অধিকতর ব্যবসাবান্ধব। আমরা রাজস্ব বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ব্যবসাবান্ধন, উন্নয়নবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার। এ কারণে রাজস্বও দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, এনবিআর বহুদূর যেতে চায়। এজন্য সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চায়। সকলে আন্তরিক থাকলে দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট, বাজেটের পরিধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন প্রস্তাব পাবো আশা করেছিলাম। আপনারাও সেটি তুলে ধরেছেন। প্রাক-আলোচনায় যেসব গুরুত্ব প্রস্তাব পাওয়া গেছে সেগুলো অর্থমন্ত্রণালয় বরাবরে পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রী আন্তরিকভাবে এসব প্রস্তাব দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণের রাজস্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। এর গতি বাড়াতে হবে। ২০৫০ সালে দশটি উন্নত রাষ্ট্রের একটি হবে বাংলাদেশ। সিলেট চেম্বারের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদের সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বক্তারা সিলেটের শুল্ক স্টেশন সংস্কার ও সুযোগ সুবিধা বাড়ানো, করের আওতা বাড়ানো, করদাতাদের জন্য অবসর ভাতা প্রদান, কৃষি ও শিল্পায়নে প্রণোদনার প্রস্তাব দেন। আলোচকরা বলেন, কর-এর আওতা বাড়াতে হবে। এতে নিয়মিত করদাতারা বোঝামুক্ত হবেন। দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়বে, উন্নয়ন গতিশীল হবে। সিলেটের শিল্পায়নে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দরকার। এটা সিলেটের মানুষ দাবি রাখে। যারা নিয়মিত টেক্স ও ভ্যাট দিচ্ছে তাদেরকে বারবার অডিট না করে করের আওতা বাড়াতে হবে। সিলেটের অনাবাদি জমি চাষাবাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ দরকার। যারা চাষ করবে তাদেরকে করমুক্ত রাখতে হবে। এতে অনাবাদি জমি দ্রুত আবাদের আওতায় আসবে। বক্তারা বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পর্যটনের সম্ভাবনার কারণে এখানে হোটেল-মোটেল গড়ে উঠছে। শুধু পর্যটন দিয়ে সিলেটের মানুষ জীবন জীবিকা নিশ্চিত করতে পারবে। তাই পর্যটনকে এগিয়ে নিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। সভায় আরো বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, এনবিআর‘র সিনিয়র সদস্য (শুল্কনীতি) মো. ফরিদ উদ্দিন, সিলেটের বিভাগীয় মো. জামাল উদ্দিন আহমদ, সদস্য (মূসকনীতি ও বাস্তবায়ন) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, এনবিআর‘র মহাপরিচালক (সিআইসি) মো. বেলাল উদ্দিন, সিলেটের কর কমিশনার মাহমুদুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিন আহমদ, সুনামগঞ্জ চেম্বারের সহ-সভাপতি আমিনুর রহমান, সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাস্টমস, এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট এর কমিশনার ড. মো. নূরুজ্জামান। উপস্থি ছিলেন এনবিআর‘র সদস্য (করনীতি) পারভেজ ইকবাল, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসান, প্রথম সচিব (শুল্কনীতি ও বাজেট) মো. ফখরুল আলম, প্রথম সচিব (করবিধি) অঞ্জন কুমার সাহা, প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. ফাইজুর রহমান, প্রথম সচিব (শুল্ক গোয়েন্দা) ও প্রধান বাজেট সমন্বয়কারি মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সিলেট চেম্বারের পরিচালক এবং ভ্যাট, বাজেট, শুল্ক, কর ও ট্যারিফ সাব-কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার সিপার আহমদ, সিলেট চেম্বারের পরিচালক লায়েছ উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির প্রমুখ। উন্মুক্ত আলোচনায় সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here