কমেছে পেঁয়াজের দাম সবজি এখনো চড়া

0
172

সরবরাহ বাড়ায় খুচরা ও পাইকারি বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। প্রায় দেড় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি উঠেছিল ৬০ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ এখনো ৬০ টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, আমদানির কারণে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার কারণেই পেঁয়াজের দাম কমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাইকারি ও বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সেই পেঁয়াজ কেউ ৪৫ টাকায়, কেউ ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে। প্রায় দেড় মাস আগে হঠাৎ বাজারে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। ২৫ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা এবং ৩০ টাকার দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় পৌঁছে।

এরপর বাড়তে বাড়তে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম উঠেছিল ৫৫-৬০ টাকায়। আর দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকায় ওঠার পর এখনো নামেনি।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ আগেও আমদানি করা পেঁয়াজ ২৪০-২৫০ টাকা পাল্লা (পাঁচ কেজিতে এক পাল্লা) বা ৪৮-৫০ টাকা করে কেজি বিক্রি করছি। এখন সেটা ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি করছি। কেজিতে আট টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে ঢুকছে বলে দাম কমেছে। হাতিরপুলের মুদি দোকানি সেজনু মিয়া বলেন, দু-তিন দিন ধরে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আমরা আমদানি করা পেয়াজ ৪৮-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। তবে দেশিটা ৬০ টাকা করে।

এদিকে স্থিতিশীল রয়েছে আদা ও রসুনের বাজার। প্রতি কেজি দেশি রসুন ১০০-১১০ টাকায় এবং আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। আর দেশি আদা ১০০-১২০ টাকা ও আমদানি করা আদা ১২০-১৪০ টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ এখনো ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হচ্ছে। তবে দু-একটি ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দামই এখনো ৬০ টাকার ওপরে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বন্যা এবং বেশ কিছু সবজির সিজন শেষ হওয়ার কারণে উৎপাদন কমে গেছে। এখন আবার নতুন সবজির চাষ শুরু হয়েছে। এগুলো বাজারে আসার আগে পর্যন্ত দাম খুব একটা কমবে না।

শুক্রাবাদ, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, শান্তিনগর, শ্যামলীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৭০-৭৫ টাকায়, গোল বেগুন ৬০-৬৫ টাকায়, ঝিঙা ৬০ টাকায়, পটোল ও চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকায়, কাঁচকলা ২০-৩০ টাকায়, ছোট ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকায়, বরবটি ৬০-৭০ টাকায়, শিম ১০০-১২০ টাকায়, ঢেঁড়স ৫০-৫৫ টাকায় এবং কচুর লতি ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আলু ২৫ টাকা, কচুর মুখি ৩০-৩৫ টাকা এবং পেঁপে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলাবাগানের সবজি বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, বন্যায় অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এ কারণে সবজির উৎপাদন কম। আবার নতুন সবজি আসতে আসতে শীতের আগে না। তখন দাম কমবে। এ পর্যন্ত চড়াই থাকবে।

তবে কারওয়ান বাজারে সবজির পাইকারি বিক্রেতা কামরুল ইসলাম জানান, বন্যা কমছে, সেই সঙ্গে বৃষ্টিও কমে যাচ্ছে। এমনিতেই সবজির উৎপাদন বেশ কম, এটা পূরণ করতে হলে নতুন সবজি বাজারে আসতে হবে। এখন বন্যার পানি নামার পর যারা নতুন ক্ষেত করবে তাদের সবজিগুলো অন্তত দেড়-দুই মাস সময় লাগবে বাজারে আসতে। এ ছাড়া দিন ভালো হলে হয়তো ৫-১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমবে। এর চেয়ে বেশি না। একটু কম দামের আশায় কারওয়ান বাজারে আসা ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, আমি কলাবাগান থেকে এসেছি বাজার করতে। সবজির দোকানে প্রচুর দাম। ভাবলাম এখানে এলে হয়তো একটু খরচ কম পড়বে। কিন্তু খুব একটা লাভ হলো না। প্রায় একই রকম দাম।

এদিকে পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম দুই টাকা পর্যন্ত কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। পাইকারি বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৯ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। যা আগে ৪০-৪১ টাকায় বিক্রি হতো। খুচরা বাজারে এখনো ৪৫ টাকার নিচে কোনো চাল পাওয়া যাচ্ছে না। আর পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। নাজির ও মিনিকেট চাল ৫৪-৬৫ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম না কমার কারণ জানতে চাইলে শান্তিনগর বাজারের খুচরা বিক্রেতা শান্তি রঞ্জন জানান, তাঁরা দাম কমার পর দোকানে চাল আনেননি। এই কারণে আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আরো কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা একই অজুহাত দেখিয়ে বললেন, কম দামের চাল তোলার পর দাম কমতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here