কর্ণফুলীর তীরে হবে পার্ক মুক্তমঞ্চ, সাম্পান জাদুঘর

0
77

দখল-দূষণে বিপর্যস্ত কর্ণফুলী নদী রক্ষায় একগুচ্ছ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। নদীর তীরে দখল হয়ে যাওয়া সরকারি খাস জায়গা পুনরুদ্ধার করে সেখানে পার্ক, ওয়াকওয়ে, ফুটবল ও ভলিবল খেলার মাঠ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। থাকছে স্বতন্ত্র টেনিস ও বাস্কেটবলের কোর্ট। শিশুদের জন্য হবে আলাদা জোন; যেখানে শিশু-কিশোররা তাদের মতো করে খেলাধুলার সুযোগ পাবে। নদীপাড়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি হবে মুক্তমঞ্চ। এছাড়াও হবে কর্ণফুলীর ঐতিহ্য সাম্পান জাদুঘর; বসবে ফেরিস হুইল।

জেলা প্রশাসন বলছে, চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণদায়ী নদী কর্ণফুলীকে দখলদারদের হাত থেকে বাঁচাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে যে মাঠ ও মুক্তমঞ্চ করা হচ্ছে, সেখানে সারা বছর ধরে চলবে নানা আয়োজন। থাকবে দর্শক গ্যালারিও। নদীর তীর ঘিরে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কর্ণফুলী রক্ষায় যেমন সচেতনতা বাড়বে, তেমনি বেগবান হবে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। একইসঙ্গে নেওয়া যাবে নতুন আরও পদক্ষেপ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে এরই মধ্যে নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারে নদীতীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

জানা গেছে, সম্প্রতি মেয়র ফিরিঙ্গিবাজারে নদীতীরবর্তী এলাকা পরিদর্শনে এলে তাঁর হাতে গোটা পরিকল্পনার সম্ভাব্য একটি মডেল তুলে দেওয়া হয়। মেয়র জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন এ প্রকল্পে জেলা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মেয়র রেজাউল করিম বলেন, ‘নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেও দখল ধরে রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রভাবশালীরা রাতের আঁধারে আবার স্থাপনা তৈরি করছে। এই বৃত্ত ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ। জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি আমরা। এই উদ্যোগটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘নদীতীর দখল ও দূষণমুক্ত করতে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনে আমরা বেশ কিছু স্থাপনা এরই মধ্যে গুঁড়িয়ে দিলেও আবার নদীর তীর দখল করছে প্রভাবশালীরা। আমরা তাই সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছি। জেগে ওঠা নতুন ভূমিতে পার্ক ও খেলার মাঠ হলে এই সচেতনতা আরও বাড়বে। চট্টগ্রামবাসী নিজেরাই তখন নদী রক্ষায় এগিয়ে আসবে।’
জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে খুশি কর্ণফুলী পাড়ের মানুষ। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সাইদ আল হাফিজ বলেন, নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে। এটির সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে জনমত তৈরি হবে। পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ এমন জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
এর আগে কর্ণফুলী নদীর তীর দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে অনেকবার মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন করেছে অনেক সংগঠন। কয়েক মাস আগেও কর্ণফুলী রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, গ্রামীণ পরিবেশ ও কৃষ্টি উন্নয়ন সমাজ সৃষ্টি, সাম্পান মাঝি কল্যাণ ফেডারেশন ও ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক যৌথভাবে মানববন্ধন করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here